নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বুধবার (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় জনপদ, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃ/তের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তালিকায় ২৯১ বিদেশিসহ ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের দিকে সীমান্ত এলাকায় ভূমিকম্পের পর তুষার বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এর কয়েক মিনিট পর ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো কারিগরিভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং নেপাল ও চীন যৌথভাবে উৎস অনুসন্ধান করছে।
বন্যায় রসুয়ার তিমুরে, রাসুওয়াগাধি ও স্যাফ্রুবেসিসহ বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতি ও বাজারের পাশাপাশি পুলিশ কার্যালয়, সড়ক এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতির মুখে পড়েছে। সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক হিসাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারীর মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি। তালিকায় ১০৫ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের অনেকেই কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তালিকাটি এখনো যাচাই করা হচ্ছে এবং ‘নিখোঁজ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত সবার অবস্থা একই রকম বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
দুর্যোগের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ সেনাসদস্য, ২৬ পুলিশ ও ৯ সশস্ত্র পুলিশ সদস্যসহ মোট ৭৯ নিরাপত্তাকর্মীর অবস্থান জানা যাচ্ছিল না। কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার ও অনুসন্ধানে নেপালের সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম ভূখণ্ড, কাদা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে হেলিকপ্টার দিয়ে কিছু এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিব্বতের দিকেও চীনা উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
এদিকে উজানে নদীর প্রবাহ আটকে থাকার আশঙ্কায় দ্বিতীয় দফা আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলেছে।