বর্ষাকাল এলেই মশার উপদ্রব বেড়ে যায়, আর সঙ্গে বাড়ে বিরক্তিকর কামড়। তবে অনেকেই জানেন না, মশা মূলত রক্তের জন্য বাঁচে না, বরং এর পেছনে রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জৈবিক কারণ।
পুরুষ ও স্ত্রী, উভয় প্রজাতির মশাই মূলত গাছের মধু ও অন্যান্য মিষ্টি তরল পদার্থ খেয়ে জীবনধারণ করে। রক্তের সন্ধান করে কেবল স্ত্রী মশা, আর তার কারণও নেহাত পুষ্টিগত নয়, এটি সরাসরি জড়িত প্রজননের সঙ্গে। ডিম বিকাশের জন্য বাড়তি প্রোটিন প্রয়োজন হয় স্ত্রী মশার, আর রক্তপানের মাধ্যমেই সে সেই প্রোটিন সংগ্রহ করে। রক্ত পান করার পর সংগৃহীত পুষ্টি দিয়ে একগুচ্ছ ডিম তৈরি করে সে, এবং পরিপক্ব হলে সাধারণত স্থির পানির কাছাকাছি জায়গায় ডিম পাড়ে।
অন্যদিকে পুরুষ মশা কখনো মানুষকে কামড়ায় না। ডিম পাড়ার দায়িত্ব না থাকায় তাদের রক্তের প্রয়োজনও হয় না; ফুলের মধু ও উদ্ভিদভিত্তিক মিষ্টি রস খেয়েই তারা বেঁচে থাকে।
কামড়ের সময় স্ত্রী মশা তার মুখাংশ ত্বকের ভেতরে ঢুকিয়ে লালা নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এই লালায় থাকা প্রোটিনের বিরুদ্ধেই মূলত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া দেখায়, যার ফলে কামড়ের স্থানে দেখা দেয় লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানি।
সব মশা কি কেবল মানুষের রক্তই খায়? না। প্রজাতিভেদে মশা মানুষ ছাড়াও পাখি, গৃহপালিত পশু বা অন্যান্য প্রাণীর রক্ত খেয়ে থাকে। এই ভিন্নতার কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মশা ভিন্ন ভিন্ন রোগ ছড়ায়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বেঁচে থাকার জন্য মশার রক্তের প্রয়োজন নেই। রক্ত না পেলেও সে মিষ্টি খাবার থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে পারে, তবে রক্ত ছাড়া ডিম পাড়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরের বার কোনো মশা ভনভন করতে শুরু করলে বুঝতে হবে, এটি হয়তো নিজের খাবার নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি খুঁজছে একটি স্ত্রী মশা।