হজরত সুলাইমান (আ.)-এর জীবনের অন্যতম বিস্ময়কর বিষয় ছিল জিনদের ওপর তাঁর বিশেষ কর্তৃত্ব। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর অধীন কিছু জিনকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করেছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ পানিতে ডুব দিয়ে কাজ করত, আবার কেউ নির্মাণসহ অন্যান্য কাজে নিয়োজিত ছিল।
সূরা আল-আম্বিয়ার ৮২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর শয়তানদের মধ্যে যারা তার জন্য ডুব দিত এবং এ ছাড়া অন্যান্য কাজ করত, তাদেরও আমি তার অধীন করে দিয়েছিলাম।” একইভাবে সূরা সাদ-এর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর আয়াতে সুলাইমান (আ.)-এর অধীনস্থ জিনদের মধ্যে নির্মাণকাজে নিয়োজিত এবং শৃঙ্খলিত জিনদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামি তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসব ডুবুরী জিন সমুদ্রের গভীরে নেমে বিভিন্ন সম্পদ ও উপকরণ সংগ্রহ করত বলে আলোচনা পাওয়া যায়। তবে পবিত্র কুরআনে তারা ঠিক কী কী সম্পদ, যেমন হীরা, মুক্তা বা নির্দিষ্ট কোনো রত্ন সংগ্রহ করত, তা বিস্তারিতভাবে বলা হয়নি। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত কুরআনিক তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করে তাফসিরভিত্তিক বর্ণনা হিসেবে দেখা উচিত।
শুধু ডুবুরী নয়, নির্মাণকাজেও ছিল জিনদের ভূমিকা
সুলাইমান (আ.)-এর অধীনস্থ জিনদের কাজ শুধু সমুদ্রের গভীরে ডুব দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কুরআনে তাদের বিভিন্ন নির্মাণকাজে নিয়োজিত থাকার কথাও বলা হয়েছে। সূরা সাবা-এর ১৩ নম্বর আয়াতে তাদের দিয়ে মেহরাব, ভাস্কর্য, বড় বড় পাত্র এবং স্থিরভাবে স্থাপিত বিশাল ডেগ তৈরির কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, সুলাইমান (আ.)-এর সাম্রাজ্যে জিনদের একটি অংশ নির্মাণ ও কারিগরি কাজে ব্যবহৃত হতো। আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সুলাইমান (আ.) তাদের ওপর এমন কর্তৃত্ব লাভ করেছিলেন, যা অন্য কোনো মানুষের জন্য সাধারণভাবে দেওয়া হয়নি।
অবাধ্য জিনদের ওপরও ছিল নিয়ন্ত্রণ
কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, সুলাইমান (আ.)-এর অধীনস্থ জিনদের কেউ অবাধ্য হলে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। সূরা সাদ-এর ৩৮ নম্বর আয়াতে শৃঙ্খলিত জিনদের উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ তারা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারত না, বরং সুলাইমান (আ.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করত।
তবে প্রচলিত কিছু কাহিনিতে জিনদের মাধ্যমে হীরা, মুক্তা, সোনা-রুপা উত্তোলন, বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ কিংবা নির্দিষ্ট স্থাপনার অলংকরণের নানা বিবরণ পাওয়া যায়। এসবের সবগুলোকে কুরআন বা সহিহ হাদিসের সরাসরি তথ্য বলা ঠিক নয়।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হলো: আল্লাহ তাআলা সুলাইমান (আ.)-এর অধীন কিছু জিনকে পানিতে ডুব দেওয়ার কাজ, নির্মাণকাজ এবং অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত করেছিলেন। এটি ছিল তাঁর জন্য আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও মু‘জিজার অংশ।
অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।