প্রায় ৫০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা ‘গ্লুবল’ নামে এক বিশেষ কণার সন্ধান করে আসছেন। এবার বেইজিংয়ের একটি কণা সংঘর্ষকেন্দ্রে পরিচালিত গবেষণায় এর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক একদল গবেষক। তাদের বিশ্লেষণ বলছে, ২০১১ সালে শনাক্ত হওয়া X(2370) কণাটির প্রধান উপাদান সম্ভবত গ্লুবল। কোয়ার্ককে আবদ্ধ রাখে গ্লুয়ন, আর গ্লুবল মূলত এসব গ্লুয়ন দিয়েই গঠিত বলে তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করা হয়। ফলে এটি এমন এক বিরল কণা, যা মূলত বলের বাহক কণার সমন্বয়ে তৈরি।
গবেষকেরা বেইজিং ইলেকট্রন-পজিট্রন কোলাইডার-২ ও বিএসইএস-৩ ডিটেক্টরে উচ্চশক্তির কণা সংঘর্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ১০ বিলিয়ন মেসন ক্ষয়ের ঘটনা বিশ্লেষণ করে X(2370)-এর ভর ও স্পিন-প্যারিটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তাত্ত্বিক পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। নতুন বিশ্লেষণে কণাটির আরও কিছু ক্ষয়প্রক্রিয়া এবং ‘ফ্লেভার-সিঙ্গলেট’ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত হয়েছে, যা গ্লুবলের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল গ্লুবল অনুসন্ধানের প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট পরীক্ষামূলক প্রমাণ।
তবে গ্লুবলের অস্তিত্ব চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। নতুন গবেষণাটি এখনো গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশের আগে পর্যালোচনাধীন, আর এর ফলাফল আর্কাইভে প্রাক-প্রকাশনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমান পরিমাপের সঙ্গে তাত্ত্বিক পূর্বাভাসের সামঞ্জস্য অন্য সম্ভাব্য ব্যাখ্যাগুলোকে অনেকটাই দুর্বল করেছে। চূড়ান্ত প্রমাণ মিললে এটি শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়া ও পদার্থের মৌলিক গঠন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণাকে আরও গভীর করবে।