গত রোববার নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, এরপর দশজনের আর্জেন্টিনা পুরো ম্যাচে একটি শটও প্রতিপক্ষের গোলবারে রাখতে পারেনি—যেখানে স্পেন নিয়েছিল ২০টির বেশি শট। এই হারের মধ্য দিয়েই সম্ভবত শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়, যা ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে।
তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক প্রশ্ন ও অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে অস্বাভাবিক আবেগপ্রবণতা দেখা গিয়েছিল, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও রোমেরো হঠাৎ ইনজুরির কথা বলে মাঠ ছাড়েন, রেফারির সিদ্ধান্তে পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত ছিল এবং মেসির পরিবার-স্বজন কিংবা আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিদের মাঠে দেখা যায়নি—যা আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রম বলে দাবি করা হচ্ছে। স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনে ভেঙে পড়া, খেলোয়াড়দের সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হওয়া এবং একটি ভিডিওকে ঘিরে রহস্য—যেখানে মেসিকে “শান্ত থাকার” আহ্বান জানাতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি—এসব নিয়েও অনলাইনে জল্পনার ঝড় উঠেছে।
তবে এসব দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সূত্র, ফিফা কিংবা আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের (এএফএ) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা মেলেনি। যে ভিডিওর কথা বলা হচ্ছে, সেটি ফিফার সরকারি সম্প্রচারে দেখা যায়নি বলেও দাবিকারীরা নিজেরাই স্বীকার করছেন—যা দাবিটির সত্যতা যাচাইকে আরও কঠিন করে তুলছে। বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে অপ্রত্যাশিত হারের পর এ ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নতুন কিছু নয়; ফলে এই মুহূর্তে এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য না বলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগ ও অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এর সত্যতা যাচাই হচ্ছে।