খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চুরির অপবাদে আজমল ওরফে আযম নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) দিবাগত রাতে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার ইসলামনগর মসজিদ গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আজমল চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের কুতুবের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার পর শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন তরুণ গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের কর্মচারীদের কাছে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীত গলির একটি চারতলা ভবনে চুরির চেষ্টা করার সময় আজমলকে আটক করা হয়। পরে আটকের ভয়ে তিনি ভবন থেকে লাফ দিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। চিকিৎসা শুরু হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই কর্তব্যরত চিকিৎসক আজমলকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজমলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হাত ও পায়ে আঘাতের দাগ ছিল। এছাড়া তার মাথার চুল কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এসব আলামতকে কেন্দ্র করে ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার দাবির সঙ্গে মরদেহের আঘাতের চিহ্নের মিল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ উঠেছে, চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছিল।
খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, নিহতের শরীরে থাকা আঘাতের দাগ ও চুল কেটে নেওয়ার আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি নির্যাতন বা পিটুনির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।
তিনি জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এবার সরাসরি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আক্রমণ
হাসপাতালে ভর্তির সময় আজমলের পরিচয় হিসেবে নাম আজমল, বাবার নাম কুতুব এবং ঠিকানা গল্লামারি, হরিণটানা, খুলনা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ময়নাতদন্তসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।