অতিরিক্ত ঋণের বোঝায় দেশ অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে দূরদর্শী পরিকল্পনার তাগিদ দিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী; প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান।
বিগত সময়ের অতিরিক্ত ঋণের বোঝা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘমেয়াদী ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অর্থনৈতিক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিগত বছরগুলোতে দেশ মাত্রাতিরিক্ত ঋণগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সঠিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া সামনে এগোনো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরিকল্পনার ঘাটতি থাকলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তীব্র টান পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ওপর।
বাজেট ও টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করেছে যেন সাধারণ নাগরিকদের ওপর অযথা করের বাড়তি বোঝা চেপে না বসে। তবে এই বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এর আগে সিরাজগঞ্জ শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম গতিশীল করতে ড্রামট্রাকসহ ৬টি পরিচ্ছন্নতা যান বিতরণ করেন মন্ত্রী। গাড়ি বিতরণের সময় তিনি নিজেই একটি ট্রাকে উঠে বসেন। বিষয়টি নিয়ে চায়ের দোকানে আলোচনা বা সমালোচনা হতে পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে দেখানোর জন্য তিনি ট্রাকে ওঠেননি। মূলত আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগে ভোরে এ ধরনের গাড়িতে রাস্তা পরিষ্কারের দৃশ্য ও পরিচ্ছন্ন শহরের পুরোনো স্মৃতি এবং আবেগের টানেই তিনি ট্রাকে উঠেছিলেন।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পৌরসভার প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।