মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলা দুই দিনব্যাপী এক বিশাল সাঁড়াশি অভিযানে ৩৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। গত ১০ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন দেশের মোট ১,০৪৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের সংখ্যাই সর্বাধিক।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘অপ সাসার’ (Ops Sasar) নামের এই অভিযানটি মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন আবাসন কেন্দ্র এবং সুতেরামাস অ্যাপার্টমেন্টসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩,৩০৭ জন বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়।
আটক ১,০৪৩ জন অভিবাসীর মধ্যে ৩৭০ জন বাংলাদেশি, ৩২৮ জন ইন্দোনেশীয় এবং ১৮৩ জন মিয়ানমারের নাগরিক। বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের অধিকাংশের বয়স ১৭ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট না থাকা, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান (ওভারস্টে) এবং সরকার কর্তৃক অসংগৃহীত বা জাল কার্ড ব্যবহারের অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে।
এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া ও সহায়তার অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে ৪৫ জন মালয়েশীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের ঘর ভাড়া দেওয়া বা থাকার সুযোগ করে দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তবে যেসব বিদেশি নাগরিক স্বদেশে ফিরতে চান, তাদের জন্য মালয়েশিয়া সরকার ‘মাইগ্রেন্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ চালু রেখেছে। এই কর্মসূচির আওতায় যেকোনো অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে ৫০০ রিঙ্গিত জরিমানা পরিশোধের মাধ্যমে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ পরিষ্কার বার্তায় জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান থামবে না। দেশজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬টি অনুরূপ অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।