সৌদি আরবের জেদ্দায় ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে নরসিংদীর রায়পুরার সৌরভ ইসলাম (২৫) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। নিহত সৌরভ রায়পুরা উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের মুছাপুর গ্রামের আমির ইসলাম ও রেনু বেগমের একমাত্র ছেলে। তিনি আলসাইম কোম্পানির অধীনে জেদ্দার একটি ব্যাংকে টি-বয় হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মালয়েশিয়ায় মাটিচাপা পড়ে গোপালগঞ্জের প্রবাসী শরিফুলের মৃত্যু
নিহতের পরিবার ও প্রবাসীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে নিজ বাসার ছাদে অবস্থান করছিলেন সৌরভ। ওই সময় ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জেদ্দার দিকে আসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার চেষ্টার সময় পায়ে তাঁর কিংবা রশি পেঁচিয়ে নিচে পড়ে যান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। সকালে সঙ্গে থাকা অন্য প্রবাসীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেখানে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সৌরভের সঙ্গে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবে থাকা এক ব্যক্তি সৌরভের স্বজনদের ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে মুছাপুর গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহতের মা রেনু বেগম বলেন, সৌরভ তাঁর একমাত্র ছেলে ছিল, ফোনে বারবার তাঁর খোঁজ নিত। তিনি শেষবারের মতো ছেলের মুখ দেখতে চান এবং নিজের হাতে ছেলেকে মাটি দিতে চান। সরকারের কাছে দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে আনার আবেদন জানান তিনি। বাবা আমির ইসলামও একই আকুতি জানান। সৌরভের স্বজন তৌহিদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া জানান, সৌরভ নম্র, ভদ্র ও শান্ত প্রকৃতির ছিলেন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্কে দ্রুত নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, স্বজনরা যোগাযোগ করলে মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।