ঢাকার আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে একটি চীনা প্রতিষ্ঠান। তবে এটি চীন থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ আমদানির কোনো প্রকল্প নয়। আমিনবাজারেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির উৎপাদনক্ষমতা হবে ৪২ মেগাওয়াট। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেশি হওয়ায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সরকারের যুক্তি, প্রকল্পটিকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাবে দেখলে এর সামগ্রিক সুবিধা ধরা পড়বে না।
প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারকে মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে না বলে জানানো হয়েছে। বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে আমিনবাজারে জমে থাকা বিপুল বর্জ্য আধুনিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।
বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কমলে কার্বন ক্রেডিট থেকে সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পের জমি ব্যবহারের বিনিময়ে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে ভাড়াও দেবে।
আমিনবাজারের পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকেও ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান PowerChina-এর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।