কুড়িগ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলের খেয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বছরের পর বছর অনুপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় লাঠি হাতে প্রতিবাদে নেমেছে কয়েক ডজন কোমলমতি শিক্ষার্থী।
হাতে বই-খাতার বদলে উদ্যত লাঠি, আর মুখে নিয়মিত পড়াশোনার আকুল দাবি। কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষকদের বছরের পর বছর ধরে চলা অবহেলা ও অনুপস্থিতির প্রতিবাদে নজিরবিহীন এক বিক্ষোভে নেমেছে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের খেয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হৃদয়বিদারক অথচ মরিয়া প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকালে নিয়মিত ক্লাস ও আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীরা দেখতে পায় সবগুলো শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলছে এবং পুরো প্রাঙ্গণ শিক্ষকশূন্য। চরম ক্ষোভ ও হতাশায় শিশুরা তালাবদ্ধ দরজার সামনে জড়ো হতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও স্থানীয় ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তালাবদ্ধ দরজায় লাথি মেরে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং শিক্ষার মৌলিক অধিকারের দাবিতে বাতাসে লাঠি উঁচিয়ে স্লোগান দেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক খুদে শিক্ষার্থী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলে, “শিক্ষকরা দিনের পর দিন স্কুলে আসেন না। সময়মতো ক্লাস হয় না এবং আমাদের ঠিকমতো পড়ানো হয় না। আমরা নিজেরাই এই প্রতিবাদ শুরু করেছি কারণ আমরা চাই শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসুক যাতে আমরা পড়াশোনা করতে পারি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, গত কয়েক মাস ধরেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। কাগজ-কলমে প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষক নিযুক্ত থাকলেও বাস্তবে তাঁদের কেউই নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। শিশুরা শেখার তীব্র আগ্রহ নিয়ে এসে তালাবদ্ধ গেট দেখে ফিরে যায়। এমন বাস্তবতায় শিশুদের শিক্ষার জন্য লাঠি হাতে রাস্তায় দাঁড়ানো অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও অভিভাবকরা এসে বুঝিয়ে শিশুদের শান্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইশরাত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে খুদে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদের খবর পৌঁছানোর পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরে এসেছে। শিক্ষকরা কেন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।