গাজীপুরের কালীগঞ্জে রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়িতে গভীর রাতে গ্রিল ভেঙে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ১০-১২ জনের ডাকাত দল; হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ব্যবসায়ী ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে।
পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু সেই টাকাই যেন কাল হয়ে দাঁড়াল পুরো পরিবারের জন্য। গভীর রাতে আশপাশের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে ব্যবসায়ীর বসতঘরে ঢুকে নৃশংস হামলা চালিয়েছে একদল ডাকাত। ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের কোপে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন গৃহকর্ত্রী। একই সঙ্গে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহকর্তা ও তাঁর কিশোরী মেয়ে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাতে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা তেঁতুইবাড়ি (গায়েনবাড়ী) গ্রামে এ বর্বর ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহকর্ত্রীর নাম মোসা. কামরুন নাহার আক্তার (৩৫)। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল হক (৪০) এবং তাঁদের মেয়ে সানজিদা আক্তার মিম (১৬)। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে নগরভেলা এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গ্রিলের গেটের তালা ভেঙে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ভেতরে প্রবেশ করে। এর আগে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দারা যাতে বের হতে না পারেন, সে জন্য তাঁদের বাইরে থেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ঘরে ঢুকেই ডাকাত দলের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মঞ্জুরুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
তাঁদের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ততক্ষণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কামরুন নাহার। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ও তাঁর মেয়ে সানজিদাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান জানান, ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতেই ঘটনাস্থলে গৃহকর্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার এই পরিবারটি একটি এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই ডাকাত দল এই হামলা চালিয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র গোছানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় টাকা বা মালামাল লুট হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্তারিত আলামত সংগ্রহ করছেন। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
এদিকে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।