গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমায় কোথাও ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎবিহীন এলাকা, গোপালগঞ্জ-নেত্রকোণাসহ একাধিক জেলায় পুলিশি টহল বৃদ্ধির নির্দেশ।
সারাদেশে তীব্র লোডশেডিংয়ের জেরে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলা ও নাশকতা এড়াতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং সার্বক্ষণিক টহলের আবেদন জানিয়েছে। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতির কারণে দেশের অধিকাংশ জেলায় লোডশেডিং পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে— কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ, যার জেরে বিদ্যুৎ অফিস, উপকেন্দ্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর আক্রোশমূলক হামলার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় তীব্র গরমের মধ্যে দিনে-রাতে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যেখানে সর্বোচ্চ ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। এই সংকটের জেরে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে পাওয়ার হাউস, বিতরণ ক্যাম্পাস ও দুটি উপকেন্দ্রকে নিয়মিত পুলিশি টহল রুটের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
একই ধরনের সংকট আরও প্রকট নেত্রকোণায়, যেখানে গ্রাম ও মফস্বল অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য হামলা রুখতে নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান এরপরই বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপাররা বিদ্যুৎ বিভাগের এই আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল বাড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ অফিসগুলোর নিরাপত্তা চিঠির অনুলিপি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও স্থানীয় থানাগুলোতেও পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বেশ কিছু উৎপাদন ইউনিট বন্ধ বা সীমিত রাখতে হচ্ছে, ফলে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে গ্রাহকদের সংকটের বিষয়ে অবহিত করার চেষ্টা করছে এবং এই সংকটকালে বিদ্যুৎ কর্মীদের ওপর চড়াও না হতে জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।