রাজধানী ঢাকার আদাবর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে এবং “সেবা নেই তো বিল নেই” দাবিতে এক অভিনব গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ না পেয়েও মাসের শেষে পুরো ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হওয়া সাধারণ নাগরিকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছে। আদাবরের বিভিন্ন ব্লক, আবাসিক এলাকা এবং বাজার সংলগ্ন পয়েন্টগুলোতে টেবিল পেতে স্থানীয় তরুণ ও সচেতন নাগরিকেরা এই স্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যেখানে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ স্বত:স্ফূর্তভাবে এসে নিজেদের নাম ও স্বাক্ষর যুক্ত করছেন।
আন্দোলনকারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল ক্ষোভের জায়গা হলো তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের চরম বৈষম্যমূলক বিলিং পদ্ধতি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সারাদিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত নিম্ন চাপে গ্যাস পাওয়া যায়, আবার অনেক দিন কোনো সরবরাহ একেবারেই থাকে না; অথচ মাস শেষে ফিক্সড রেটের পুরো টাকা গুনতে হচ্ছে। এই অন্যায্য নিয়ম পরিবর্তনের লক্ষ্যে “নো গ্যাস, নো বিল” স্লোগানকে সামনে রেখে নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো, সংগৃহীত এই হাজারো মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি স্মারকলিপি সরাসরি তিতাস গ্যাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে আইনি ও পদ্ধতিগত চাপ সৃষ্টি করা, যেন দ্রুত সব গ্রাহকের জন্য স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয় এবং গ্যাস না থাকা দিনগুলোর বিল মওকুফ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সচেতন নাগরিক মহলেও এই “নো সার্ভিস, নো বিল” পলিসি বাস্তবায়নের বিষয়টি জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আদাবরের এই মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়মতান্ত্রিক এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে যদি কর্তৃপক্ষ তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেয় এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর নাগরিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই শান্তিপূর্ণ কিন্তু দৃঢ় প্রতিবাদী উদ্যোগটি এখন শুধু আদাবর নয়, বরং পুরো ঢাকা শহরের গ্যাস বঞ্চিত সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের এক অনন্য প্রতীকী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।