নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ীতে আধিপত্য বিস্তার ও স্কুল কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলমগীর (২৩) নামে এক যুবক মারা গেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাহ আলমগীর উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নূরুল হক মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি সংঘর্ষে জড়িত এক পক্ষের নেতা লিগেল মিয়ার সমর্থক ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রানীচাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লিগেল মিয়া ও আব্দুর রহমানের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
এই বিরোধের জেরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে দিনভর থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমগীরসহ চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শাহ আলমগীরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংঘর্ষে এক পক্ষে ছিলেন উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমানের লোকজন এবং অন্য পক্ষে ছিলেন একই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়ার অনুসারীরা।
বেনাপোল পৌর এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মরদেহ উদ্ধার
শাহ আলমগীরের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রানীচাপুর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খালিয়াজুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি মামলা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।