উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসমরে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মামুন মিয়া (২৫)। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাঁর পরিবার ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বেঁচে ফেরা এক সহকর্মী জানিয়েছেন।
ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে
মামুন মিয়া নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেম ও রোকেয়া খাতুন দম্পতির একমাত্র ছেলে। দেশে তিনি ইলেকট্রিশিয়ান ও প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। তাঁর পরিবারে মা, স্ত্রী মহিমা আক্তার, এক ছেলে ও পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন মামুন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় চলতি বছরের ৭ মে সাড়ে ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আরও ৩০ জন বাংলাদেশির সঙ্গে রাশিয়ায় যান মামুন। এ অর্থ জোগাড় করতে পরিবারকে ব্যাংকঋণ নেওয়ার পাশাপাশি ধারদেনা করতে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, রাশিয়ায় পৌঁছানোর মাত্র চার দিন পর এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট দালাল চক্র মামুনসহ বাংলাদেশি যুবকদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাঁদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ইউক্রেন সীমান্তের সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়।
গত ২৬ আগস্ট স্ত্রীর সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন এবং তাঁর মাথার ওপর দিয়ে অনবরত ড্রোন ঘুরছে। প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে একটি ওয়াই-ফাই জোনের আওতায় এসে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
মামুনের সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ঝিনাইদহের রাজন হোসেন যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত হওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজন ফোন করে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় মামুন নিহত হয়েছেন। রাজনের দাবি, তাঁদের সঙ্গে যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ১৭ জন ইতোমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন।
মামুনের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোক। ঋণের বোঝার পাশাপাশি দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও মা। মামুনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
এদিকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ‘জাবাল-এ নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’সহ তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।