শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতারা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছেন। ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানকে ঘিরে সংঘাত পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের নতুন হামলার মধ্যে এ চুক্তি সই হলো। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সৌদি আরবের জন্য চুক্তিটি ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা মোকাবিলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার সীমাবদ্ধতার মধ্যে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। তবে এটি ন্যাটোর মতো সামরিক জোট নয় এবং তিন দেশের জন্য ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর মতো স্বয়ংক্রিয় সামরিক প্রতিক্রিয়ার নিশ্চয়তাও নেই। পাকিস্তান এরই মধ্যে সৌদি আরবে কিছু সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠিয়েছে। চুক্তিটি সৌদি আরবের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিতও নয়; বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামোর সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
পাকিস্তানের জন্য চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান নিরাপত্তা কাঠামোয় দেশটির ভূমিকা আরও দৃঢ় করছে। অঞ্চলটি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের আবাসস্থল, জ্বালানি আমদানির বড় উৎস এবং কয়েক মিলিয়ন পাকিস্তানি প্রবাসীর কর্মস্থল। অন্যদিকে তুরস্কের জন্য চুক্তিটি কাতার, সিরিয়া ও লিবিয়ার সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা অংশীদারত্বের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দেশের সামরিক, প্রতিরক্ষা শিল্প ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি ও পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতাও বাড়তে পারে।