রোমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দিনের আলোচনার পর দক্ষিণ লেবাননে ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চল’ বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। এসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী সরে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তর করবে বলে বুধবার জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে এবং পক্ষগুলো পরীক্ষামূলক অঞ্চল প্রক্রিয়ার কাঠামো ও নির্দেশনা নিয়ে একমত হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে আলোচনার ফল নিয়ে লেবানন বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২৬ জুন লেবানন ও ইসরায়েল একটি ‘কাঠামোগত চুক্তি’ ঘোষণা করে। এতে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর বিনিময়ে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, শুরুতে দুটি ‘পরীক্ষামূলক অঞ্চল’ নির্ধারণ করার কথা ছিল। এসব এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবে এবং লেবাননের সেনাবাহিনী ওই এলাকাগুলো হিজবুল্লাহর উপস্থিতিমুক্ত করবে। তবে চলতি সপ্তাহে রোম আলোচনার আগে মাঠপর্যায়ে এ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন আটকে ছিল।
আগামী ২১ জুলাই ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের। রোম আলোচনার আগে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননের প্রতিনিধিদলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী কোনো আলোচনার আগে দুই পরীক্ষামূলক অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার দাবি করতে।
বুধবারের বিবৃতিতে পরীক্ষামূলক অঞ্চল কোথায় হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে লেবানন ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, এর মধ্যে ফ্রুন, গান্দুরিয়েহ ও জাওতার শহর অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
নির্ধারিত অঞ্চলগুলো নিয়ে লেবাননে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ নির্বাচিত এলাকার বেশির ভাগ অংশে শুরু থেকেই ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ছিল না। ফলে সেখানে প্রত্যাহার কীভাবে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। লেবাননের সেনাবাহিনী আরও বড় এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে থাকা বেশি এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে পরীক্ষামূলক অঞ্চল নির্ধারণের পক্ষে ছিল।
সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু হয় ২ মার্চ, যখন হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়েছিল।
হিজবুল্লাহ ও ইরান লেবাননের যুদ্ধের সমাপ্তিকে বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিল। তবে ইরানের প্রভাব কমাতে আগ্রহী লেবানন সরকার দুই বিষয়কে আলাদা রাখতে চেয়েছে এবং সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে উদ্যোগী হয়।
২৬ জুনের লেবানন-ইসরায়েল চুক্তিতে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তি চুক্তির পথ তৈরির কথাও বলা হয়েছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৮০ বছর পরও দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক অঞ্চল বাস্তবায়নের পর বিস্তৃত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে। এর লক্ষ্য হবে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি সামগ্রিক চুক্তিতে পৌঁছানো।
তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি লেবানন-ইসরায়েল আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা এই চুক্তি মেনে চলবে না এবং নিরস্ত্র হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে দীর্ঘমেয়াদি দখল বজায় রাখার পরিকল্পনা তাঁদের রয়েছে।