কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিজের গাড়ির চালকের যোগসাজশে এক নারী ও তাঁর ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ভুক্তভোগী নারীর গাড়িচালকও রয়েছেন। পরে এক আসামির দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তাঁর বাড়ির গোয়ালঘর থেকে লুট হওয়া সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপরাধী পুলিশের রেহাই নেই, কড়া বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পুলিশ জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে দাউদকান্দি উপজেলার হুগুলিয়া সাকিন্থ মারকাজ মসজিদের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। রোকেয়া আক্তার (৪১) তাঁর ছেলে ও গাড়িচালককে নিয়ে নিজস্ব প্রাইভেটকারে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা তিনজন ব্যক্তি রামদা, সুইচগিয়ার, ছুরি ও চাকুসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে গাড়ির গতিরোধ করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গাড়িচালক দরজা খুলে দিলে অস্ত্রধারীরা গাড়িতে থাকা রোকেয়া আক্তার ও তাঁর ছেলেকে জিম্মি করে। পরে তাঁকে মারধর করে পরিহিত স্বর্ণালংকার ও ব্যবহৃত স্মার্টফোন নিয়ে যায়।
পুলিশের তথ্যমতে, লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে এক জোড়া চুড়ির ওজন প্রায় এক ভরি ছয় আনা, একটি চেইনের ওজন এক ভরি এক আনা দুই রতি এবং একটি পাশার ওজন এক আনা পাঁচ রতি। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া স্মার্টফোনটির মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ঘটনার পর ২৫ সেপ্টেম্বর দাউদকান্দি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়।
অভিযানে দাউদকান্দির স্বল্পপেন্নাই এলাকা থেকে ভুক্তভোগীর গাড়িচালক আলমগীর (৩৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর সুরমা থানার কালিতারা এলাকা থেকে মো. আরমান আলী (২৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, আরমান আলীর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তাঁর বসতবাড়ির গোয়ালঘরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় লুট হওয়া সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।