ব্যাংক থেকে মাসে তিনবারের বেশি নগদ টাকা তুললে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে এমন একটি প্রস্তাব ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ বা এবিবির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেবার খরচ সমন্বয় এবং নগদবিহীন লেনদেন উৎসাহিত করার যুক্তিতে মোট ১৪টি সেবায় নতুন মাশুল বা বিদ্যমান মাশুল বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তিগত হিসাবের ক্ষেত্রে মাসে প্রথম তিনবার কাউন্টার থেকে নগদ টাকা উত্তোলন বিনা মাশুলে করা যাবে। চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং দশবারের বেশি হলে প্রতিবার ৩০০ টাকা মাশুল নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়িক হিসাবের ক্ষেত্রে মাসে ২০ বার পর্যন্ত টাকা উত্তোলন বিনা মাশুল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং ৫০ বারের বেশি হলে প্রতিবার ১৫০ টাকা মাশুলের সুপারিশ রয়েছে।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যাংক হিসাব পুনরায় সচল করতে ৫০০ টাকা মাশুল এবং ঋণ প্রক্রিয়াকরণ মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ওপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলে গ্রাহকদের ওপর এ ধরনের মাশুল আরোপ করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রাহকের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত সহজে অনুমোদন করবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাই আপাতত গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক প্রভাব যাচাই করবে।