ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। সোমবার ভোরে একের পর এক হামলায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিয়েভই ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্য। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালান। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-মা ও তাঁদের সন্তানসহ একটি পরিবারের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনের প্রাক্কালে এ হামলা চালানো হলো। সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্রদের কাছে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা এবং শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রয়োজন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও রাশিয়ার ছোড়া কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা যায়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতিই ইউক্রেনের জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ কয়েকটি অঞ্চলের সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র কারখানা, বিমানঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে মস্কোর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, হামলার প্রধান ক্ষতি হয়েছে আবাসিক এলাকায়।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেন, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো আবাসিক ভবন, যেখানে সাধারণ মানুষ ঘুমাচ্ছিলেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের ঝুঁকির কারণে কিয়েভের শহরতলির কিছু এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার বিমান হামলা জোরদারের মধ্যেই ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর দাবি করেছে। কিয়েভের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার এবং আজভ সাগরে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষও রাতভর ইউক্রেনের বড় আকারের ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাটতি এবং যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতিকে আবারও সামনে এনেছে।