সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো টিউলিপ সিদ্দিকের যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবি ভিত্তিহীন গুজব বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক শামিল হয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের মূলধারার গণমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল বা সরকারি কোনো প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম প্রধানমন্ত্রী পদের আলোচনায় আসেনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশটিতে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন বা এ পদের জন্য কোনো দলীয় প্রতিযোগিতা শুরু হয়নি। টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে নির্বাচিত লেবার দলের একজন সংসদ সদস্য। ব্রিটিশ রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, দলীয় নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ নেই।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে লেবার দল সরকার গঠনের পর টিউলিপ সিদ্দিককে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে পারিবারিক সম্পত্তি ও বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট বিতর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়েন। তবে সে সময় ব্রিটিশ সরকারের নৈতিকতা বিষয়ক পর্যালোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রী আচরণবিধি ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশেও তাঁর বিরুদ্ধে গুলশানের একটি ফ্ল্যাট-সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সংবাদে জানা গেছে। এসব বিতর্ক ও আইনি জটিলতার মধ্যেই তাঁকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড়ে দেখিয়ে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা যাচাইহীন ও বিভ্রান্তিকর। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো এমন তথ্য যাচাই ছাড়া প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।