পিবিআই, সিআইডি, ডিবি কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে নোয়াখালী থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে স্ব-উদ্যোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম জেলা। এ ঘটনায় মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত গাড়িচালকের যোগসাজশে মালিকের স্ত্রী-পুত্রকে জিম্মি করে লুট
পিবিআই জানায়, পিবিআই, সিআইডি ও ডিবি পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের বিশ্বাস অর্জন করে গাড়ি ভাড়া ও মামলার পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে আসে।
এ ঘটনায় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই (নিঃ) মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ১৭০/৪১৯/৪২০/৪০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা গ্রহণের পর পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন গৌরীপুর এলাকা থেকে মোজাম্মেল হক @ কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
তদন্তে জানা যায়, মোজাম্মেল হক আগে ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। পরে কোর্টে যাতায়াত শুরু করে মহুরী হিসেবে কাজ করতেন। কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার তথ্য, বাদী বা বাদিনীর মোবাইল নম্বর এবং মামলার আরজির কপি সংগ্রহ করতেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, তিনি নিজেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বাদীদের ফোন করতেন এবং তদন্ত রিপোর্ট তাদের পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা নিতেন।
এই মামলায়ও এক বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে রিপোর্ট পক্ষে দেওয়ার আশ্বাসের মাধ্যমে বিকাশে ৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রতারক চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং তারা এ ধরনের আরও কোনো ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : পিবিআই