পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লাল চরে চারণভূমির ঘাস খেয়ে ৩১টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মহিষ মারা গেছে। চারণভূমির ঘাসে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা।
রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির অপ্রত্যাশিত পরাজয়, চমক দেখাল বেতিস-মোনাকো
এ ঘটনায় মোস্তফা ফকির ও রুহুল আমিনসহ লাল চরের কয়েকজন দরিদ্র খামারি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের মধ্যে মোস্তফা ফকির প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় মহিষ লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
স্থানীয় ও খামারিদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে চারণভূমিতে ঘাস খাওয়ার পর একে একে মহিষগুলো অসুস্থ হতে শুরু করে। মোট ৩১টি মহিষ আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কয়েকটি তাৎক্ষণিকভাবে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি অসুস্থ মহিষগুলোর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
খামারিদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিতভাবে চারণভূমির ঘাসে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
খবর পেয়ে বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা শুরু করেন। উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি খাদ্যে বিষক্রিয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মৃত মহিষের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একসঙ্গে এতগুলো মহিষ অসুস্থ হওয়া এবং কয়েকটির মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। লাখ টাকার সম্পদ হারিয়ে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।