দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর কুয়ালালামপুরের দুটি ভবনে অভিযান চালায় মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। কর্তৃপক্ষের দাবি, বাংলাদেশি এক পুরুষ ও থাই এক নারী চক্রটির মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ যৌন ব্যবসার একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM)। অভিযানে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক থাই নারীসহ মোট ২৬ জনকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, গোপন সংবাদ ও গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ‘ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস’ বিভাগ প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চক্রটির কার্যক্রম নজরদারিতে রাখে। এরপর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জালান কুচাই লামার একটি আবাসিক ভবন ও জালান গেলুগুরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে একযোগে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে তিন পুরুষ ও ২৩ নারীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে চক্রটির হোতা হিসেবে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক থাই নারীকে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া স্থাপনাটির পাহারাদার ও ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এক মালয়েশিয়ান নাগরিককেও আটক করা হয়েছে।
আটকদের মধ্যে ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, তিনজন বাংলাদেশি নারী, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, দুজন ভিয়েতনামি নারী এবং একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে আটক বিদেশিদের কাছে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে অবস্থানের প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা অভিবাসন নথি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইমিগ্রেশন প্রধান জাকারিয়া শাবানের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও শ্রমিকদের গ্রাহক হিসেবে লক্ষ্য করত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন বন্ধ গ্রুপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের বন্ধ কক্ষের আড়ালে প্রায় দুই মাস ধরে কার্যক্রমটি চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, চক্রটির নিয়ন্ত্রণে থাকা নারীদের পাসপোর্ট বাংলাদেশি ও থাই হোতাদের কাছে রাখা হতো, যার মাধ্যমে তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। আবাসিক ভবনে ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক ভবনে ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত নেওয়া হতো।
অভিযানস্থল থেকে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্ট জব্দ করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কনডম, কয়েকটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১ হাজার ২১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশি পুরুষ, থাই নারী ও মালয়েশিয়ান সহযোগীর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৬(১)(ডি) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। নথিপত্রহীন অন্য বিদেশিদের একই আইনের ধারা ৬(১)(সি)-এর অধীনে আটক দেখিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ইমিগ্রেশন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে আরও সাত মালয়েশিয়ান নাগরিককে তদন্তে সহায়তার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।