রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খানের মৃত্যু নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরকে বানোয়াট আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী ও তাঁর দল; স্বজনদের দেখা না দিলে লং মার্চের হুমকি পিটিআইয়ের।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কারাবন্দি শীর্ষ নেতা ইমরান খানের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ একটি গুজব ও ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী ও তাঁর রাজনৈতিক দল। আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা এই নেতার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে টানা যোগাযোগের ঘাটতি এবং এক সাংবাদিকের আপলোড করা ভিডিওর সূত্র ধরে এই চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১১ আগস্ট, যখন পাকিস্তানি প্রবাসী সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান একটি ইউটিউব ভিডিওতে সামরিক সূত্রের বরাতে দাবি করেন, সেনাসদর দপ্তরের (জিএইচকিউ) তিন কর্মকর্তা ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং তিনি আর বেঁচে নেই বলে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে ব্যাপক শোরগোলের পর ওই সাংবাদিক নিজেই আবার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তথ্যের নিশ্চিত কোনো প্রমাণ কারও কাছে ছিল না, সেটি কেবলই একটি আশঙ্কা থেকে ছড়ানো বার্তা।
মূলত ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি ৭৩ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে গত ২৩ দিন ধরে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী কিংবা চিকিৎসকদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন সব ধরনের যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ থাকায় এই গুজবটি হু হু করে সাধারণ সমর্থক ও নেটিজেনদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক মোড় নিলে দ্রুত মাঠে নামে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর)। এক বিরল পদক্ষেপে তড়িঘড়ি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে সামরিক বাহিনী জানায়, ইমরান খানের মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ বানোয়াট, মিথ্যা ও একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক চাল।
এদিকে সেনার বিবৃতির পরও পিটিআই অবিলম্বে ইমরান খানের বর্তমান সুস্থতার বিষয়ে ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা বেঁচে থাকার সুনির্দিষ্ট ও সশরীরের প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুত ইমরান খানের চিকিৎসাস সেবা নিশ্চিত ও স্বজনদের দেখা করার সুযোগ না দিলে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ সমর্থক নিয়ে রাজধানী অবরুদ্ধসহ দেশজুড়ে সর্বাত্মক আন্দোলন শুরু করা হবে।
ইতিমধ্যে এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আদিয়ালা জেলের বাইরে চরম বিশৃঙ্খলা ও অতিরিক্ত পুলিশ-আধা সামরিক বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের খবর মিলেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও জেলে চিকিৎসাবঞ্চিত ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।