ইউরোপে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়ছে বলে দাবি করেছেন ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থায় রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি পলিয়ানস্কি। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অস্ত্রের চাহিদা নিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো অক্টোবরের শেষ নাগাদ আলোচনা করতে পারে বলে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সংস্থাটির স্থায়ী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে পলিয়ানস্কি বলেন, ইউরোপ পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ইঙ্গিতের কথা উল্লেখ করে তিনি এ বক্তব্য দেন।
পলিয়ানস্কি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রয়োজনীয় অস্ত্রের চাহিদা নিয়ে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো আলোচনা করতে পারে বলে ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মস্কো অনুসরণ করছে। রুশ কর্মকর্তার মতে, এসব ঘটনা ইউরোপের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
পলিয়ানস্কি বলেন, ইতালি, উত্তর আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ফিনল্যান্ডসহ কয়েকটি অঞ্চলে একই সময়ে সামরিক মহড়া ও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এসব কার্যক্রমে জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেন, লাটভিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের বাহিনী অংশ নিচ্ছে। রাশিয়ার সামরিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি।
ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে গিয়ে জেল খেটে দুই বছর পর ফিরলেন ছয় বাংলাদেশি
রাশিয়ার এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কো ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সামরিক মহড়াগুলোর প্রকৃতি বা ঘোষিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে পলিয়ানস্কির বক্তব্যের বিষয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রাশিয়া ও ইউরোপের নিরাপত্তা অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য অব্যাহত রয়েছে। অস্ত্রের প্রস্তুতি, সামরিক প্রতিরোধ এবং ইউক্রেন সংঘাতের ভবিষ্যৎ দুই পক্ষের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।