ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদগুলোতে অবস্থান পরিবর্তন করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক অধিকার আন্দোলনের নেতা আবু জাফরের আজ ৫১তম জন্মবার্ষিকী
প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার কারণে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির খবরও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য এখানে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পর ৪১ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।
তাঁকে লোকচক্ষুর আড়ালে রাখার পাশাপাশি বাঙ্কারযুক্ত সুরক্ষিত রাজপ্রাসাদে অবস্থান পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপরও পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতাধীন ভবিষ্যৎমুখী নগর প্রকল্প নিওমসহ বড় উন্নয়ন উদ্যোগগুলো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের মতো মিত্রদেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে নাগরিকদের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারির কথাও জানানো হয়েছে।
তবে সৌদি যুবরাজের বর্তমান অবস্থান, নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিবরণ এবং উল্লিখিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলোর সর্বশেষ অবস্থা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।