পাকিস্তানে আগামী ৮ অক্টোবর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রধান বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বড় সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা সোহাইল আফ্রিদি দলীয় কর্মীদের ওই দিন থেকে ‘টি-২০ ম্যাচ’ শুরু হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। সরকারের সঙ্গে দলের দুই দফা আলোচনা ফলহীনভাবে শেষ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা, হেলপার নিহত
কোহাটে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সোহাইল আফ্রিদি বলেন, তাদের লড়াই দীর্ঘমেয়াদি। এ কারণে তিনি কর্মীদের অতিরিক্ত ক্লান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই দীর্ঘ। তাই নিজেদের খুব বেশি ক্লান্ত করে ফেলবেন না।”
সোহাইল আফ্রিদি আরও বলেন, খাইবার পাখতুনখাওয়া পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের এবং ভবিষ্যতেও তা-ই থাকবে।
এদিকে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও পিটিআই নেতা জুনায়েদ আখতার দাবি করেছেন, আগামী ৮ অক্টোবর পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে।
তিনি বলেন, যারা ইমরান খানের বক্তব্য বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না, তাদের সরে দাঁড়িয়ে অন্যদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জুনায়েদ আখতার দলের ভেতরের কিছু নেতার ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু নেতা শুধু বক্তব্য ও লোক দেখানো কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন। ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়ন ও পদ দেওয়ার সময় এমন নেতাদের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইমরান খানের প্রতি আনুগত্যের কারণে কেউ কারাগারে থাকবেন বা প্রতিনিয়ত মামলা ও অযোগ্যতার মুখোমুখি হবেন, অথচ অন্যরা কর্মীদের কষ্ট বা দলের রাজনৈতিক অবস্থানের দায় নেবেন না—এমন পরিস্থিতি আর গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।
জুনায়েদ আখতার আরও দাবি করেন, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি অযোগ্য ঘোষিত হলে তার কারণ হবে ইমরান খানের প্রতি তাঁর আনুগত্য। ইমরান খানের অনুগতদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই ধারা বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি।
এদিকে পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকম রাজা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে দলের দুই দফা আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো দফাতেই সমঝোতা হয়নি।
সোমবার দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পিটিআই দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়। তবে তাঁর অভিযোগ, সরকারের মন্ত্রীরা আলোচনার বিষয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বক্তব্য দিচ্ছেন।
সালমান আকম রাজা বলেন, দুই দফা আলোচনাই কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। আলোচনায় পিটিআই দুটি প্রধান দাবি তুলেছিল। এর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়া।
তাঁর ভাষ্য, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে পিটিআই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
পিটিআই মহাসচিবের দাবি, সরকার তাদের দুটি দাবির কোনোটিই মেনে নিতে রাজি হয়নি। আলোচনায় মূল মতবিরোধ তৈরি হয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার একটি সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে।
রাজা দাবি করেন, সরকার জানিয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কিছু এলাকায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে।
তিনি আবারও বলেন, রাজনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা প্রয়োজন।