ইয়েমেনের হুথিদের ভয়াবহ হামলার পর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে থাকা সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) নতুন ব্যবস্থায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। তবে বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর মধ্যেই নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছে হুথিরা। ফলে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগের পাশাপাশি যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
শনিবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন টার্মিনাল ব্যবস্থার ঘোষণা দেয়।
‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ লিখে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোববার থেকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে টার্মিনাল ২ ব্যবহার করবে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
এ ব্যবস্থার আওতায় সৌদিয়া ও ফ্লাইনাসের মতো সৌদি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট টার্মিনাল ২ থেকে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে। যাদের ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত রয়েছে, তাদের বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ফ্লাইটের সময়সূচি, বুকিংয়ের বর্তমান অবস্থা এবং নির্ধারিত টার্মিনাল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন।নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিকও ছিলেন।
হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগিতা নিশ্চিত করতে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সময়সীমা পরবর্তী সময়ে বাড়ানো হয়।
এ সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত করে। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
তবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুরো সময় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল না। এর আগেই সীমিত পরিসরে কিছু ফ্লাইট পরিচালনার খবর পাওয়া যায়। রোববারের নতুন ঘোষণা মূলত নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবস্থায় বিমান চলাচল আরও বিস্তৃত করার পদক্ষেপ।
এদিকে বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগের মধ্যেই হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে তাঁদের সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করে বিমান সংস্থা, বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের সেখানে যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
হুথিদের এই বক্তব্যের ফলে বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে রোববার রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করার তথ্য জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলেও আন্তর্জাতিক সব বিমান সংস্থার কার্যক্রম একসঙ্গে স্বাভাবিক হয়েছে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
তাই রিয়াদগামী এবং রিয়াদ থেকে যাত্রা করতে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে ফ্লাইটের সময়সূচি কিংবা পরিচালন ব্যবস্থায় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এ অবস্থায় বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা বহাল রয়েছে।