গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটেছিল। এই বিক্ষোভে সরকারি স্থাপনাসহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার মধ্যে ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নেপালি কংগ্রেসের তৎকালীন সভাপতি শের বাহাদুর দেউবার বাড়িও। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে দেউবা ও তার স্ত্রী আরজু দেউবার ওপর হামলার একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
একই সঙ্গে দেউবার বাসভবন থেকে পোড়া অবস্থায় বেশ কিছু টাকার বান্ডিল উদ্ধারের দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দেউবা এসব ভিডিওকে ভুয়া বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র— যদিও এর পেছনে কে আছে তা তিনি জানেন না। এর আগে এক বিবৃতিতে দেউবা দাবি করেছিলেন, পুলিশের সরকারি নথিতে তার বাসভবনে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি তার।
তবে দেউবার এই ব্যাখ্যার পরও তদন্ত কমিশন সরকারকে তার বাসভবনে পাওয়া অর্থ নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের সুপারিশ করেছে। জানা যায়, ফরেনসিক পরীক্ষায় দেউবা ও আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহলের বাসভবন থেকে সংগৃহীত ছাই ও পোড়া নোটের নমুনায় নেপালি ও বিদেশি মুদ্রার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ পাচার তদন্ত বিভাগ (ডিএমএলআই)।
এদিকে সবশেষ ঘটনাক্রমে, চিকিৎসার জন্য প্রায় ছয় মাস বিদেশে অবস্থানের পর আজ বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন ৮০ বছর বয়সী দেউবা। ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ছাড়া দেউবার বিরুদ্ধে গত এপ্রিলে অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ, যা তাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সরকারের অধীনে টার্গেট হওয়া সর্বশেষ উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাওয়া রাস্তায় শত শত সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানান। দেউবা নিজে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই তরুণ-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পেছনে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার ক্ষোভও কাজ করেছিল বলে মনে করা হয়। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন ও বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে আগুন দেয়, যার জেরে শেষ পর্যন্ত সরকারের পতন ঘটে।