যুক্তরাষ্ট্রের নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হয়েছে, আগামী কয়েক বছরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে জোটের কোনো একটি সদস্যদেশে সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতির মধ্যে সাইবার হামলা, পরিচয় গোপন রাখা সশস্ত্র গোষ্ঠী মোতায়েন এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে ছোট পরিসরে স্থল অভিযান চালানোর মতো পদক্ষেপ রয়েছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে সম্ভাব্য সময়কাল চলতি বছরের শরৎ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
এর আগে মার্কিন মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলার সময় পুতিন ন্যাটোর কোনো সদস্যদেশকে সরাসরি উসকানি দেওয়া এড়িয়ে চলবেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে সেই মূল্যায়নে পরিবর্তন আসে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও তেলশিল্পে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হতাহতের মধ্যেও রুশ বাহিনী সীমিত অগ্রগতি অর্জন করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে চাপ ও দেশে বিজয় অর্জনের চাপের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়লে পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারেন। এমন কোনো অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে ন্যাটো জোটের ঐক্যে ফাটল ধরানো। সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডে পড়া এবং ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে সীমিত স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা, যদিও সময়ের সঙ্গে তা বাড়তে পারে। এমন হামলা হলে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আর্টিকেল ৫ কার্যকর হওয়ার আশঙ্কায় বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সাইবার বা হাইব্রিড হামলার ক্ষেত্রে ন্যাটোর প্রতিক্রিয়ার কাঠামো তুলনামূলকভাবে কম স্পষ্ট। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা অস্ত্রের ঘাটতির দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুত অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে।