পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান দেশ ছাড়া এবং রাজনীতি থেকে দূরে থাকার শর্তে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি ইমরান এই সপ্তাহে একাকী বন্দিত্বের তিন বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছেন। ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তিনি জনসম্মুখের বাইরে রয়েছেন। দেশটির শক্তিশালী /সামরিক প্রতিষ্ঠানের/ সঙ্গে বিরোধের জেরে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানকে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় মুক্তি দেওয়া নিয়ে নেপথ্যে আলোচনা হয়েছে বলে সামরিক মহল ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের চলতি বছরের শুরুতে চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কয়েক মাস ধরে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তার মৃত্যুর গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বাবাকে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্য নিয়ে তারা শঙ্কিত। ইমরানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সায়েদ জুলফি বুখারিও দাবি করেছেন, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার স্বার্থে তাকে স্বাস্থ্যগত কারণে মুক্তি দেওয়া উচিত।
স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে কারাগার থেকে মুক্তির বিষয়টি এখন সম্ভাব্য পথ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এর আগে অনুরূপ সমঝোতার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ২০১৯ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ইমরানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমঝোতায় দেশ ছাড়ার পাশাপাশি রাজনীতি থেকে দূরে থাকা ও প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য না দেওয়ার মতো কঠোর শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ইমরান খান এমন শর্ত মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে পাকিস্তানে সংশয় রয়েছে।







