ইরানের ইসফাহান শহরের আলিখানি স্কয়ার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আরও দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগের সংবাদ সংস্থা মিজান মঙ্গলবার জানায়, মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় সময় আমিরহোসেইন সাফারি ও আবোলফজল সেপাহির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর আগে আলিখানি স্কয়ারে একটি ফাঁসির মঞ্চ স্থাপন এবং এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করায় নতুন করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খবরে রাতভর সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জড়ো হওয়া মানুষের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কথাও উঠে আসে, যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানুয়ারির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আলোচিত আলিখানি স্কয়ার মামলায় মোট ১২ জন তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ১৯ জুলাই গোলমোহাম্মদ মোহাম্মাদি ও এরফান এসফান্দিয়ারির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা জানুয়ারির বিক্ষোভে চারজন নিরাপত্তাকর্মী হত্যাসহ অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সাফারির পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছিল, শেষ সাক্ষাতের জন্য স্বজনদের ইসফাহান কেন্দ্রীয় কারাগারে ডাকা হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা, ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতোর নেতৃত্বে, বাকি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, একই শুনানিতে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া, বিচার গোপনে পরিচালনা করা এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশারে প্রচারিত স্বীকারোক্তির ওপর রায় নির্ভর করা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ডের পরিপন্থী। সর্বশেষ এই দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ফলে আলিখানি স্কয়ার মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। বাকি আটজন এখনও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছেন।