পর্তুগাল জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্পে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ এই তারকার দাবি, নতুন প্রধান কোচের সঙ্গে আগে থেকেই তার খেলার সময় ও শারীরিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি পরিকল্পনা ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে ৩০ মিনিট খেলানোর কথা বলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। রোনালদোর ভাষায়, এর মাধ্যমে কোচ তার দেওয়া কথা রাখেননি।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশের ডাক
রোনালদো জানান, বিষয়টি নিয়ে অন্য কারও ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর না করে তিনি নিজেই সরাসরি পর্তুগালের মানুষের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি পর্তুগাল জাতীয় দল ছাড়ার কথা ভেবে দেশের মানুষের উদ্দেশে একটি চিঠিও লিখেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। ফেডারেশন তখনও চাইছিল, তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যান।
এরপর ফেডারেশন সভাপতি সম্ভাব্য নতুন প্রধান কোচের একটি নাম নিয়ে রোনালদোর মতামত জানতে চান। অন্য প্রার্থীদের নাম তার কাছে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। যে কোচের নাম তার কাছে বলা হয়েছিল, সেই নিয়োগকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মত দেন রোনালদো।
পরে ওই কোচই দায়িত্ব পাওয়ায় তিনি খুশি হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। রোনালদোর মতে, এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলও সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করছে।
নিয়োগের কয়েক দিনের মধ্যে নতুন কোচ রোনালদোর সঙ্গে সরাসরি দেখা করার আগ্রহ জানান। ছুটি শেষে তাদের বৈঠক হয় সিদাদে দু ফুটেবলে, যেখানে সে সময় রোনালদোর ক্লাব আল নাসর প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রোনালদোর দাবি, ওই বৈঠকে কোচ তাকে পরিষ্কারভাবে জানান যে, তিনি তাকে পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে তার খেলার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়।
সে পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোনালদোর প্রথম ও শেষ ম্যাচে খেলার কথা ছিল। শারীরিক চাপ সামলাতে প্রতি ম্যাচে তিন থেকে চারটি পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছিলেন কোচ।
রোনালদো জানান, তখন তাকে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে দলের সঙ্গে না যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, তিনি প্রথম ম্যাচটি খেলে পর্তুগালেই থেকে যাবেন এবং পরে ড্রাগাওয়ে অনুষ্ঠেয় ম্যাচের আগে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
তবে এই প্রস্তাব তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন।
রোনালদোর বক্তব্য, বিদেশের ম্যাচে না খেললেও তিনি তখনও পর্তুগালের অধিনায়ক। সে কারণে দলের বাইরে থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়া তার কাছে সঠিক উদাহরণ মনে হয়নি।
পরে কোচ তার যুক্তির সঙ্গে একমত হন বলেও দাবি করেছেন রোনালদো।
তিনি জানান, ওই বৈঠকে আল নাসরের ক্রীড়া পরিচালক সিমাও কুতিনিয়ো উপস্থিত ছিলেন। রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান কোচ গত মৌসুমে কুতিনিয়োর অধীনেই কাজ করেছেন এবং ২০২৫ সালে তাকে ক্লাবে নেওয়ার ক্ষেত্রেও কুতিনিয়োর ভূমিকা ছিল।
জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর আগের দিন কোচ নিজের অনুরোধে লিসবনে রোনালদোর বাড়িতেও যান। সেখানে আবারও তাদের আলোচনা হয়। রোনালদোর দাবি, বৈঠকটি শান্ত পরিবেশে হয়েছিল এবং আগস্টে ঠিক হওয়া সব নীতিই বহাল ছিল।
এরপর আলভালাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাঠে নামেন রোনালদো। ম্যাচে তাকে বদলি করা হলেও তিনি এ নিয়ে কোনো আপত্তি করেননি বলে জানান।
রোনালদো বলেন, বদলি হওয়ার সময় তিনি নিজেই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে তুলে দেন। তখনও তিনি কল্পনা করেননি, সেটি হয়তো পর্তুগালের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে যেতে পারে।
তার ভাষায়, সেদিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জয়।
পরিস্থিতি বদলায় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন।
রোনালদো জানান, সেদিন দুপুরে দল একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় কোচের একজন সহকারী তার কাছে এসে জানান, প্রধান কোচ তার সঙ্গে কথা বলতে চান।
রোনালদোর দাবি, ওই আলোচনায় কোচ হঠাৎ জানতে চান, তিনি ৩০ মিনিট খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় আছেন কি না।
এতে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। কারণ তার আগের শারীরিক পুনরুদ্ধার ও অনুশীলন পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না। তিনি ৪ তারিখ ড্রাগাওয়ের ম্যাচে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
তারপরও কোচের অনুরোধে তিনি খেলতে সম্মত হন।
রোনালদোর ভাষ্য, কোচ তখন তাকে প্রস্তুত থাকতে বলেন এবং জানান, তিনি ৩০ মিনিট মাঠে নামবেন।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই তিনি ওয়ার্ম-আপ করতে থাকেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে মাঠে নামানো হয়নি।
রোনালদো বলেন, “বাকিটা সবাই জানে। আমি বিরতির পর থেকেই ওয়ার্ম-আপ করেছি, মিনিটের পর মিনিট চলে যেতে দেখেছি, কিন্তু আমাকে ডাকা হয়নি।”
এরপর তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “কোচ আমাকে দেওয়া কথা রাখেননি।”
জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্প ঘিরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোনালদো পুরো ঘটনাটিকে পারস্পরিক সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।