হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনী লারাক দ্বীপে দুটি লঞ্চারে হামলা চালানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই হামলায় দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কৌশলগত এই জলপথে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা মাইন স্থাপনকারী বাহিনীর’ বিরুদ্ধে তারা ‘সীমিত ও নির্ভুল অভিযান’ পরিচালনা করেছে। পরে ইরান দাবি করে, তারা জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তারা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ চায় না, তবে হামলার জবাব দেবে। তিনি বলেন, আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে ইরান ‘দৃঢ় প্রতিক্রিয়া’ জানাবে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন এই উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। লারাক দ্বীপটি ইরানের বন্দর আব্বাস ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত। চলমান সংঘাত ছয় মাসের বেশি সময় পার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর তেহরান ইসরায়েল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।