চীনের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড সংস্থা রাষ্ট্রীয় কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশন (সিএমসি) থেকে দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে তদন্তের পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। তাদের অপসারণের ফলে আগে সাত সদস্যের কমিশনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংসহ সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মাত্র দুজনে।
ঝাং ইউশিয়া সিএমসির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সি চিন পিংয়ের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন। তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাবশালী পলিটব্যুরোরও সদস্য। অন্যদিকে লিউ ঝেনলি ছিলেন সিএমসির সদস্য এবং কমিশনের জয়েন্ট স্টাফ ডিপার্টমেন্টের চিফ অব স্টাফ। ২০১২ সালে সি চিন পিংয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া বৃহত্তর দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল সামরিক বাহিনী। গত মাসেও সামরিক বাহিনীতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন সি। দীর্ঘ এ অভিযানে বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও শীর্ষ জেনারেলের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং অপসারণের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে শুক্রবার চীনের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিনিধি তালিকা থেকেও ঝাং ও লিউসহ ১২ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন সিএমসির জেনারেল অফিসের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঝং শাওজুন এবং সামরিক বাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক সাপোর্ট ফোর্সের সাবেক কমান্ডার জেনারেল জু ছিয়ানশেং। তালিকায় নানচাংয়ের সাবেক মেয়র গাও শিওয়েনের নামও রয়েছে। পৃথকভাবে বুধবার চীনের শীর্ষ রাজনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ২০২০ সালের চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাতের সময় ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে থাকা সাবেক কমান্ডার ঝাও জংছিকেও সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।