রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ পায়ে তীব্র ব্যথা বা পেশিতে টান ধরা খুবই সাধারণ ঘটনা। সাধারণত পা বিশ্রামে থাকা অবস্থায়, বিশেষ করে ঘুমের সময় পায়ের পাতা নিচের দিকে বাঁকানো থাকলে কাফের পেশি সংকুচিত হয়ে এমনটা হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে বসা, স্নায়ুর অস্বাভাবিক কার্যকলাপ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে টেনডন ছোট হয়ে যাওয়াও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
সাধারণত পায়ে রাতের বেলায় টান ধরা কয়েক সেকেন্ড বা মিনিটের মধ্যেই কমে যায় এবং গুরুতর নয়। তবে বারবার বা দীর্ঘস্থায়ী টানের সঙ্গে তীব্র ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, লালচে বা ত্বকের পরিবর্তন এবং পেশির দুর্বলতা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থা, সমতল পা, মেরুদণ্ডের কিছু সমস্যা, স্নায়ুর রোগ, পারকিনসন রোগ, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, লিভার-কিডনি বা থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা এবং কিছু ওষুধের কারণেও পায়ে টান ধরতে পারে।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে বসা, স্নায়ুর অস্বাভাবিক কার্যকলাপ এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে টেনডন ছোট হয়ে যাওয়াও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বয়স্কদের মধ্যে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়।
হঠাৎ টান ধরলে পা সোজা করে পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে কাফের পেশি প্রসারিত করা যেতে পারে। আক্রান্ত পেশিতে হালকা ম্যাসাজ করা, কিছুক্ষণ হাঁটা বা উষ্ণ সেঁকও উপকারী হতে পারে। নিয়মিত সুষম খাবার খেয়ে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন কমানো উপকারী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট কাফের পেশি প্রসারিত করা এবং দিনে পর্যাপ্ত নড়াচড়া করাও সহায়ক হতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় চাদর বা কম্বল পায়ের কাছে খুব আঁটসাঁট না রাখলে পায়ের পাতা নিচের দিকে বাঁকা হয়ে থাকার প্রবণতা কমতে পারে।