বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাইবার অপরাধ দমন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী অক্টোবরের শুরুতে দায়িত্ব শেষে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। এ সময় তিনি চীনের মিনিস্টার অব পাবলিক সিকিউরিটির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে চীন সফরের আমন্ত্রণ বার্তা পৌঁছে দেন।
স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়ার পর ১১ মাসের শিশুর সঙ্গে যা ঘটল…
আলোচনায় সাইবার অপরাধ মোকাবিলা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে সাইবার ক্রাইম, পাবলিক সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে বিশেষায়িত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন এবং ডিজিটাল ফরেন্সিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় ইউনিট পর্যন্ত সাইবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য চীনা বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চীনে পাঠানোর কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।