নেত্রকোণার কলমাকান্দায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবঞ্চিত একটি কাঁচা সড়ক মেরামতে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় তরুণরা। নিজেদের শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে মাটি ভরাট ও সংস্কারের কাজ করেছেন তাঁরা। এতে বড়খাপন ইউনিয়নের অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাকা সড়ক থেকে বড়ইউন্দ বাজার হয়ে গনাই নদী ও রেকার হাওরের ঈসারবাড়ি খালের সংযোগস্থল পর্যন্ত বিস্তৃত কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। এবারের বন্যায় সড়কটির প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
দুই সপ্তাহ পর রিয়াদ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালু, হুথিদের নতুন হুমকি
এ অবস্থায় সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেন যাত্রাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও কলমাকান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন। পূজার ছুটিতে বাড়িতে আসা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু করেন। নিজের অর্থায়নে মাটি ভরাটসহ প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ পরিচালনা করেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের পথ। বর্ষাকালে কাদা ও ভাঙনের কারণে এ পথে চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিপাকে পড়তে হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে কর্দমাক্ত সড়কে যানবাহনের চাকা আটকে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া ছোট যানবাহন উল্টে যাত্রীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
বড়ইউন্দ বাজারের ব্যবসায়ী লিটন মিয়া, স্থানীয় বাসিন্দা মোহন এবং রিকশাচালক রুকন মিয়া জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা থাকলেও এবারের বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সংস্কারের ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় মানুষকে দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কাঞ্চনের উদ্যোগে এলাকার তরুণরা এগিয়ে আসায় চলাচলের সমস্যা কিছুটা কমবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সড়ক সংস্কারের উদ্যোক্তা কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় তিনি স্থানীয় তরুণদের সঙ্গে নিয়ে নিজ খরচে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তবে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারের ফলে আপাতত চলাচলের সুবিধা তৈরি হলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, বন্যা ও বর্ষার সময় সড়কটি পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারি উদ্যোগে টেকসই সংস্কার ও পাকাকরণ প্রয়োজন।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের যোগাযোগসংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁরা সরকারি সহায়তায় দ্রুত সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী হলেও কয়েকটি গ্রামের মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে স্থায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়ে গেছে।