রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাবা-মায়ের কাছে ভিডিও কলে সাহায্য চাওয়ার পর ঝুমা খাতুন বর্ষা (২৪) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর রাতে একটি বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতনের শিকার ছিলেন ঝুমা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি।
ঝুমার চাচা শেখ জাকির হোসেন জানান, গত বছর তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কখনো ৩০ হাজার, কখনো ৫০ হাজার টাকা চাওয়া হতো। টাকা আনার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের দাবি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছয় বছরের মেয়েকে চোখ উপড়ে ও বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে ঝুমা বাবা-মাকে ভিডিও কল করে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাঁকে বাঁচাতে বলেন। তখন তাঁর মুখে ও চোখে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। ফোনের ওপাশ থেকে স্বামীর হুমকিও শোনা যায় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। ঝুমার ছোট বোন ভিডিও কলের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেন।
স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করতে বাসায় পৌঁছে সামনে অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। সেখানে তাঁদের বলা হয়, ঝুমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে চাচা শেখ জাকির হোসেনের অভিযোগ, ভিডিও কলের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
পরে ঝুমাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক ডা. রাহিদা বেগম মিতু জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিক নথিতে শ্বাসরোধের উল্লেখ এবং সুরতহালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ স্বামীকে আটক করে এবং তেজগাঁও থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরিবার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. বাবর আলী অগ্রগতির তথ্য দিতে পারেননি।
সূত্র রোকেয়া কালেকটভি