স্বামীর পরকীয়া ধরে ফেলার পর বিচ্ছেদের পথে না গিয়ে তাঁকে প্রেমিকার কাছে মাসিক অর্থের বিনিময়ে ‘ভাড়া’ দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়েছেন থাইল্যান্ডের এক নারী। স্বামী ও তাঁর প্রেমিকা একসঙ্গে থাকতে চাইলে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থাই বাত, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার শর্ত দেন তিনি।
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় টেলিভিশন টক শো ‘Hone-Krasae’-তে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর-সিল জাল করে মাদ্রাসা কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২
ওই নারীর নাম খুন কোয়াং (৩১)। তাঁর স্বামী পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁদের ১০ বছরের সংসার এবং আট বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
স্বামীর আচরণে সন্দেহ হওয়ার পর কোয়াং প্রতিদিন ১০ হাজার বাত খরচ করে একজন ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করেন। ওই গোয়েন্দা তাঁর স্বামীকে অনুসরণ করে রামখামহেং এলাকার একটি ফ্ল্যাটে প্রেমিকার সঙ্গে দেখতে পান।
পরকীয়ার বিষয়টি ধরা পড়ার পর স্বামী বাড়িতে ফিরে আসেন। কিছুদিন স্বাভাবিকভাবে চলার পর এক রাতে তিনি কোয়াংকে জানান, প্রেমিকাকে ভুলতে পারছেন না।
এরপর ঝগড়া বা তাৎক্ষণিক বিচ্ছেদের পথে না গিয়ে কোয়াং একটি আর্থিক চুক্তির প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বামী ও প্রেমিকা একসঙ্গে থাকতে চাইলে প্রতি মাসে তাঁকে ৩০ হাজার থাই বাত দিতে হবে। এর মধ্যে স্বামী ও প্রেমিকা প্রত্যেকে ১৫ হাজার বাত করে দেবেন।
প্রস্তাবটি শুনে স্বামীর প্রেমিকা দ্রুত রাজি হন। তিনি জানান, তাঁর কাছে ‘টাকা কোনো সমস্যা নয়’।
তবে প্রেমিকা রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত ওই ‘ভাড়া’ বা লিজ চুক্তিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান কোয়াংয়ের স্বামী। তিনি বাড়ি ও গাড়িসহ সম্পদ পরিবারের কাছে রেখে শুধু পরনের কাপড় নিয়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।
চুক্তির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়ায় পরে স্বামীর প্রেমিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন কোয়াং।
এদিকে দেশটির আইনি বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ‘স্বামী ভাড়া’ বা লিজ চুক্তির আইনি কার্যকারিতা নেই। থাইল্যান্ডের একবিবাহসংক্রান্ত আইন ও জনশৃঙ্খলার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এমন চুক্তি আদালতের মাধ্যমে কার্যকর করার সুযোগ নেই বলে তাঁরা জানিয়েছেন।