বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালী গ্রামে বর্গাচাষী বাবাকে অপমান করার ঘটনা দীর্ঘ ৪৬ বছর মনে রেখে সেই পুরো জমি কিনে নিয়েছেন সুমন। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার অপমান দেখে যে সংকল্প করেছিলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনের সঞ্চয় দিয়ে তা পূরণ করেছেন তিনি। বর্তমানে নিজের জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন ৭২ বছর বয়সী সুমন।
সুমনের বাবা আবদুল হামিদ হাওলাদার অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতেন। ওই জমির মালিক ছিলেন তিনজন।
প্রবাসী সৎ ভাইয়ের পাঠানো ১ লাখ ১২ হাজার টাকা জু’য়ায় হেরে ছি’নতাইয়ের নাটক
সুমন যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, তখন একদিন তাঁর বাবা উৎপাদিত ফসলের ভাগ হিসেবে ডাল নিয়ে জমির এক মালিকের বাড়িতে যান। কিন্তু জমির মালিক অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রাপ্য অংশের তুলনায় কম ডাল দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সুমনের বাবাকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা ও অপমান করা হয়।
বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কিশোর সুমনের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। নিজের চোখের সামনে বাবাকে অপমানিত হতে দেখে তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন, একদিন পুরো জমিটি কিনে নেবেন।
সেই সংকল্প থেকেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন সুমন।
সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যান। সেখানে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। জীবিকার প্রয়োজনে হাতুড়ি দিয়ে ইট ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন শ্রমের কাজও করতে হয়েছে তাঁকে।
পরবর্তী সময়ে জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান সুমন। সেখানে দীর্ঘদিন রংমিস্ত্রির কাজ করে অর্থ উপার্জন ও সঞ্চয় করেন।
তবে কর্মজীবনের নানা সংগ্রামের মধ্যেও বাবার অপমানের ঘটনাটি ভুলে যাননি তিনি। নিজের উপার্জিত অর্থে একদিন সেই জমি কেনার লক্ষ্য ধরে রাখেন।
অবশেষে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর তাঁর সেই সংকল্প পূরণ হয়। যে জমিতে একসময় তাঁর বাবা বর্গাচাষী হিসেবে কাজ করতেন, সেই পুরো জমিটি তিন মালিকের কাছ থেকে কিনে নেন সুমন।
বর্তমানে তাঁর বয়স ৭২ বছর। নিজের উপার্জিত অর্থে জমির মালিক হওয়ার পর তিনি সেখানে একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন।
একসময় যে জমিতে তাঁর বাবা অন্যের অধীনে চাষাবাদ করতেন, এখন সেই জমিতেই স্বাধীনভাবে কৃষিকাজ করছেন সুমন।
দীর্ঘদিনের শ্রম, সঞ্চয় ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি একজন আত্মনির্ভরশীল খামারি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বাবার অপমানের জবাব দিতে গিয়ে কোনো সংঘাত বা অন্যায় পথ বেছে নেননি সুমন। বরং নিজের পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করে জমি কেনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।
বর্গাচাষীর ছেলে থেকে নিজের জমির মালিক হয়ে ওঠার এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসা পাচ্ছে।
বাবার প্রতি ভালোবাসা এবং ৪৬ বছর ধরে একটি লক্ষ্য ধরে রাখার ঘটনাই সুমনের জীবনসংগ্রামের অন্যতম দিক হয়ে উঠেছে।