সিলেটের বিয়ানীবাজারে প্রেমিকার অজান্তে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে অর্থ আদায়ের অভিযোগে মওদুদ আহমদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার সিলেটের আমল গ্রহণকারী আদালত-৪-এ তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মওদুদ আহমদ বিয়ানীবাজার উপজেলার জলঢুপ গ্রামের মো. আব্দুল জলিলের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলায় মওদুদের পাশাপাশি তাঁর বন্ধু হিসেবে পরিচিত আব্দুল শহিদকেও আসামি করা হয়েছে।
ফসলি জমি রক্ষায় জীবন দেওয়ার হুমকি বুড়িচংয়ের ২৪ কৃষক পরিবারের
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা-বাবাহারা ওই তরুণীর সঙ্গে মওদুদ আহমদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সম্পর্ক চলাকালে তরুণীর অজান্তে তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন মওদুদ।
পরবর্তী সময়ে তরুণী তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করলে তাঁদের সম্পর্কে জটিলতা দেখা দেয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের দাবি জানানোর পর মওদুদ গোপনে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেন।
একপর্যায়ে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তরুণীর ওপর অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা আদায় করেন মওদুদ।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সর্বশেষ তরুণীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের আশঙ্কা এবং অর্থের চাপের মুখে তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করে।
মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে প্রধান আসামি মওদুদ আহমদ ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে শুক্রবার ঢাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর শনিবার মওদুদকে সিলেটের আমল গ্রহণকারী আদালত-৪-এ হাজির করা হয়। সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিকন্দর জানান, মামলার প্রধান আসামি মওদুদ আহমদকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে মামলার অপর আসামি আব্দুল শহিদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর অবস্থান শনাক্তে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণী ও মামলার বাদীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা অর্থ আদায়ের ঘটনা এবং অপর আসামির ভূমিকার বিষয়েও তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।