খুলনার তেরখাদা উপজেলায় নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে পরিত্যক্ত বিদ্যালয় ভবনে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার মধুপুর শ্যামনগর পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে আটক করেছে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বর্গাচাষী বাবাকে অপমান, ৪৬ বছর পর পুরো জমিই কিনে নিলেন ছেলে
আটক ব্যক্তিরা হলেন তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২৮), একই গ্রামের মো. আলমগীর কাজীর ছেলে মাজাহারুল কাজী (২২) এবং আশরাফ শরীফের ছেলে শাহাজাহান শরীফ (৩৮)।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভুক্তভোগী ওই নারী নদী পার হয়ে দিঘলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে তেরখাদা উপজেলার ৬নং মধুপুর ইউনিয়নের বেলেঘাট এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কয়েকজন জেলে তাঁকে নদী পার করে দেওয়ার কথা বলে নৌকায় তোলেন।
অভিযোগ রয়েছে, জেলেরা নৌকাটি দিঘলিয়ার দিকে না নিয়ে কৌশলে ওই নারীকে মধুপুর শ্যামনগর পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে ঘটনার সংবাদ পেয়ে তেরখাদা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। এরপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, “ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।