সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে কারাগার থেকে বাবাকে ফোন করে বড় সমস্যায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন বাংলাদেশি তরুণ নজরুল ইসলাম। গত ১১ অক্টোবর বাবার সঙ্গে তাঁর শেষবারের মতো কথা হয় বলে জানিয়েছেন নজরুলের বাবা আবদুল বাছির।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ফার্মগেটে মৌমাছি-ভিমরুলের উপদ্রব, ঘুমন্ত শিশুর চোখে কামড়
নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আবদুল বাছির গণমাধ্যমকে ছেলের সঙ্গে শেষ ফোনালাপ এবং পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
আবদুল বাছির জানান, ১১ অক্টোবর রোববার নজরুল কারাগার থেকে তাঁকে ফোন করেছিলেন। সে সময় ছেলে শুধু জানিয়েছিলেন, তিনি অনেক বড় সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।
তবে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছেন কিংবা কোন অভিযোগে তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি নজরুল।
বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ফোনালাপই ছিল ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা। দুই দিন পর ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার বিষয়টি তাঁরা আগে থেকে জানতে পারেননি বলে দাবি পরিবারের।
নজরুলের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পরিবারের অভাব দূর করার আশায় ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
সৌদি আরবে যাওয়ার পর নজরুল মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
পরিবারের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক বাংলাদেশি তরুণীর সঙ্গে কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
এরপর প্রায় তিন বছর তিন মাস নজরুল মক্কা ও রিয়াদের কারাগারে বন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত প্রতি রোববার মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতেন। তবে শেষবার ফোন করেছিলেন বাবাকে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও তাঁদের আগাম কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এমনকি বাংলাদেশ কনস্যুলেটকেও আগে থেকে জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নজরুলের পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রদত্ত তথ্যে নেই।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে তাঁরা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার পর বাবা আবদুল বাছির অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার রাতেই তাঁর আপন ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে দাবি পরিবারের।
উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। নজরুলকে বিদেশে পাঠাতে নেওয়া সাত লাখ টাকার ঋণ এবং পাওনাদারদের চাপ তাঁদের দুর্দশা আরও বাড়িয়েছে।
আবদুল বাছিরের দাবি, তাঁর ছেলেকে যদি বিনা অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এর বিচার চান।
একই সঙ্গে সরকারি খরচে নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে নজরুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি সহায়তার সুযোগ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে পরিবারকে অবহিত করার বিষয়ে উত্থাপিত দাবিগুলোর স্বাধীন সত্যতা প্রদত্ত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।