নওগাঁর মান্দায় ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে ডেকে নিয়ে মারধর, জোরপূর্বক অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ৭ অক্টোবর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মান্দা থানায় মামলা রুজু করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মীর মো. আনোয়ার হোসেন (৬২) রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা।
ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে পূর্বপরিচিত এক নারীর মাধ্যমে তিনি মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে যান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে তাঁকে ডেকে নেওয়ার পেছনে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িতে পৌঁছানোর পর জাকারিয়ার পরিকল্পনায় অন্য আসামিরা আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন।
পরে এক নারী আসামির সঙ্গে জোরপূর্বক তাঁর অশ্লীল ও নগ্ন ছবি এবং ভিডিও ধারণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।
এজাহার অনুযায়ী, চাঁদা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা ঘটনার দিন দুপুরে তাঁকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন।
পরে তাঁকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রবিবার (১১ অক্টোবর) মান্দা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও মোহনপুর ও মান্দা থানায় তিনটি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে মামলার অন্য আসামিদের পরিচয় ও তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।