মিশরের গিজা গভর্নরেটের আরদ এল-লোয়া এলাকায় বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে যাওয়া চার বছরের একটি শিশুকে মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক আগমুহূর্তে লুফে বাঁচিয়েছেন এক তরুণ দোকানদার। তাঁর নাম আহমেদ রাগাব (২৫)। শিশুটিকে উদ্ধারের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে উবওয়েল ঠিক করার কথা বলে গৃহবধুর ঘরে ঢুকে পড়ে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি
অক্টোবরের শুরুতে ঘটনাটি ঘটে। উদ্ধারকারী আহমেদ রাগাব স্থানীয় একজন দোকানদার। ঘটনার সময় তিনি তাঁর বাবার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
হঠাৎ ওপর থেকে একটি শিশুর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনতে পান আহমেদ। সঙ্গে সঙ্গে ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে চার বছরের একটি শিশু নিচে পড়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে মুহূর্তের মধ্যে শিশুটি যেখানে পড়তে পারে, সেদিকে দ্রুত ছুটে যান তিনি। এ সময় নিচে নামতে থাকা শিশুটি ঝুলে থাকা একটি কাপড়ের দড়িতে ধাক্কা খায়। এতে তার পড়ার গতি কিছুটা কমে যায়।
সেই সামান্য সময়ের মধ্যেই আহমেদ নিজেকে শিশুটির নিচে অবস্থান করান। মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক এক সেকেন্ড আগে দুই হাত বাড়িয়ে শিশুটিকে লুফে নেন তিনি। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় শিশুটি।
ঘটনাটির পুরো দৃশ্য রাস্তার পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল ভিডিওতে আহমেদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখে প্রশংসা করছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকেই তাঁকে ‘বাস্তবের সুপারহিরো’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন মন্তব্য করেন, “এক সেকেন্ডের জন্য দেরি হলে হয়তো একটি চিরতরে হারিয়ে যেত।”
ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ রাগাব জানান, শিশুটিকে পড়ে যেতে দেখে চিন্তা করার মতো সময় পাননি তিনি। ওই মুহূর্তে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য ছিল শিশুটিকে বাঁচানো।
একই সঙ্গে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আহমেদ। বিশেষ করে শিশুদের বারান্দায় চলাফেরা ও অবস্থানের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করেন তিনি।
চার বছরের শিশুটিকে উদ্ধারের এ ঘটনায় আহমেদ রাগাবের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।