মুন্সিগঞ্জে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজী মো. হাবিবুর রহমানকে (৫২) ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে যুবদল নেতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার পর অভিযান চালিয়ে চাঁদার দুই লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে।
এক টুকরো রুটি চুরির অভিযোগে পথশিশুর সঙ্গে অমানবিক আচরণ, গ্রেপ্তার ১
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপু (৩৪) ও স্বপন (৩৫)। ঘটনার পর রাজিব হোসেন অপুকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
ভুক্তভোগী কাজী মো. হাবিবুর রহমান মুন্সিগঞ্জ শহরের কাটাখালী এলাকার বাসিন্দা। তিনি দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজী হাবিবুর রহমানকে কাটাখালীর বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তাঁকে কাজী অফিসে নেওয়া হয়। পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে কাজী হাবিবুর রহমানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার নেপথ্যে স্বপনের পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। স্বপনের স্ত্রী ইতি কাজী হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে স্বপনের কাছে তালাকনামা পাঠিয়েছিলেন। এর জের ধরে হাবিবুর রহমানের কাছে চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাণনাশের হুমকির মুখে কাজী হাবিবুর রহমান অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ শাখা থেকে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তাঁর স্ত্রীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের হাতে ওই টাকা তুলে দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সোমবার রাতে কাজী হাবিবুর রহমান নিজে বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজিব হোসেন অপু ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা হিসেবে নেওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে যুবদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিব হোসেন অপুকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।