রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে এক পথশিশুকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, এক টুকরো রুটি চুরি করে খাওয়ার কারণে মেয়েশিশুটিকে মারধর করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী রিপন মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।
পকেট খরচের টাকার জন্য চার মাসের ভাগ্নেকে বিক্রির অভিযোগে মামা গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি একটি মেয়েশিশুকে মারধর করছেন। এ সময় একজন পথচারী এগিয়ে এসে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন। ভিডিওতে আরেক ব্যক্তিকে ওই পথচারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, এক টুকরো রুটি চুরি করে খাওয়ার কারণে শিশুটিকে মারধর করা হয়েছে।
চুরি করা অপরাধ। কিন্তু কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকলেও একটি শিশুকে পিটিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার কারও নেই। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া আর আইন প্রয়োগ করা এক বিষয় নয়। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোই যথাযথ পথ।
একই সঙ্গে সামনে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—শিশুটি কেন এক টুকরো রুটি চুরি করতে গিয়েছিল?
সে ক্ষুধার্ত ছিল কি না, তার পরিবার বা নিরাপদ আশ্রয় রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যে বিস্তারিত জানা যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে এসব বিষয়ও সামনে আসতে পারে।
তবে একটি পথশিশুকে খাবার চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনাটি সমাজে অসহায় শিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণের বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর তারা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী রিপন মণ্ডল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
এখন শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এক টুকরো রুটির আর্থিক মূল্য হয়তো সামান্য। কিন্তু সেই রুটিকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর শরীরে আঘাতের যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা সমাজের মানবিকতা ও শিশুদের প্রতি আচরণ নিয়ে বড় প্রশ্ন রেখে যায়।